make money online

অনলাইনে আয় করার ১৫ টি বাস্তবিক উপাই। যা জানলে আপনিও অনলাইনে ইনকাম করতে পারবেন-

About Outsourcing Active Income Passive Incom

সূচনাঃ-

আপনি যদি অনলাইনে আয় করার পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চান তাহলে আপনি ঠিক জায়গায় এসেছেন।আমাদের মধ্যে প্রচুর মানুষ রয়েছে যারা অনলাইনে আয় করার স্বপ্ন দেখে থাকেন। বিশেষ করে আজকালের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। অনলাইন ইনকাম করার জন্য তারা ইউটিউব,গুগল ইত্যাদি ওয়েবসাইটে সবসময় নানারকম তথ্য খুঁজে বেড়ায়।প্রযুক্তির বদৌলতে এখন সবাই অনলাইনে আয় করতে চায়।কিন্তু পর্যাপ্ত সঠিক তথ্যের অভাবে অনেকে বিভিন্ন সমস্যায় পড়েন।অনলাইন ইনকাম তো হয়ই না, উল্টো মূল্যবান সময় নষ্ট হয়।

এর মধ্যে মানুষের অজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু লোক খুলে বসেছেন বিভিন্ন ট্রেডিং সেন্টার,তারা আপনাকে হাজার হাজার ডলার আয় করার স্বপ্ন দেখিয়ে হাতিয়ে নিবে বিশাল অঙ্কের টাকা কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হবে না। ফেসবুক কিংবা ইউটিউবে এসব ট্রেডিং সেন্টারের বিজ্ঞাপনের অভাব নেই।

তাহলে আপনার মাথায় এখন নিশ্চয়ই প্রশ্ন আসছে যে অনলাইনে ইনকামের কি তাহলে আসলেই কোন উপায় নেই? সবই কি তাহলে ভুয়া? উত্তর হবে না। অনলাইনে আয় করা অবশ্যই সম্ভব।তবে তার জন্য নির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতি রয়েছে।বিষয়টা এমন নয় যে আপনি কিবোর্ডের বাটন চাপবেন আর আপনার ব্যাংক একাউন্টে হাজার হাজার ডলার এসে জমা হবে।অনেকেই মনে করে থাকেন অনলাইনে আয় করা সহজ কিন্তু বিষয়টা এমন নয়। আপনাকে ঠিক যেভাবে অফলাইনে মেধা বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে পরিশ্রম করতে হয় ঠিক অনলাইনেও আপনাকে পরিশ্রম করতে হবে বিভিন্ন নতুন নতুন কাজ শিখতে হবে আর প্রচুর ধৈর্য্য রাখতে হবে।অনলাইনে কাজ করার ক্ষেত্রে এই ধৈর্য্য জিনিসটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।অনেকেই অনলাইনে কাজ করার ক্ষেত্রে দ্রুত ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলেন এবং হতাশ হয়ে যান।এমনটা হওয়া যাবে না।আপনি পৃথিবীর কোন কাজেই রাতারাতি টাকা আয় করে বড়লোক হয়ে যেতে পারবেন না, একমাত্র চুরি ডাকাতি দুর্নীতি ছাড়া তাই আপনাকে অবশ্যই ধৈর্য্য রাখতে হবে।

আবার কিছু লোক রয়েছে আয়ের সহজ পদ্ধতি খুঁজতে গিয়ে বিভিন্ন PTC সাইটে যোগদান করে বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে আয় করার স্বপ্ন দেখেন।এছাড়া এরকম কিছু অ্যাপও রয়েছে। কিন্তু এদের বেশিরভাগই ভুয়া।এসব ওয়েবসাইট/অ্যাপ আপনার ব্যাক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়ে কিছুদিন পরই উধাও হয়ে যাবে। তাই এসব সাইটের পিছনে আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট করা ছাড়ুন।

তো চলুন আমরা জানতে শুরু করি অনলাইনে আয় করার কিছু সঠিক এবং বৈধ পদ্ধতি। আমি যে বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করবো এগুলি নির্ভরযোগ্য এবং বৈধ।পৃথিবীর অনেক মানুষ রয়েছেন যারা এসব পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন এবং প্রচুর আয়ও করছেন।তবে অবশ্যই প্রতিটি কাজে আপনাকে ধৈর্য্য ধরতে হবে এবং পরিশ্রম করে যেতে হবে।

 

১। ব্লগিং করে অনলাইনে আয়-

অনলাইনে আয় করার জন্য ব্লগিং খুবই জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি।পৃথিবীর অনেক মানুষ রয়েছে যারা ব্লগিংকে একটি ফুলটাইম পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায়ই সাড়ে চারশো কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছেন।সব স্মার্টফোন এবং কম্পিউটার ব্যবহারকারীই এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন।ইন্টারনেট আমাদের জীবনকে সহজ করে দিয়েছে।আমরা এখন যে কোন তথ্য খোঁজার জন্য ইন্টারনেটকে ব্যবহার করি।গুগলে নানারকম তথ্য খুঁজি।এই ইন্টারনেট ব্যবহারকারীকে কাজে লাগিয়ে আমরা ব্লগ লিখা শুরু করতে পারি। ব্লগিং করার মাধ্যমে আমরা ইন্টারনেটে আমাদের জানা তথ্য গুলি সহজে তুলে ধরতে পারি।

ব্লগ থেকে আয় করার অন্যতম দুটি উপায় হচ্ছে বিজ্ঞাপন এবং এফিলিয়েট মার্কেটিং।আপনি আপনার ব্লগে গুগল এডসেন্সের বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আয় করতে পারবেন।আপনি আপনার ব্লগের মাধ্যমে এফিলিয়েট মার্কেটিং করেও আয় করতে পারবেন। এরজন্য আপনাকে বিভিন্ন অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে জয়েন করতে হবে।এডসেন্স এবং এফিলিয়েট মার্কেটিং করার মাধ্যমে ব্লগ থেকে প্যাসিভ ইনকাম করা সম্ভব।

কি কি বিষয় নিয়ে ব্লগ লিখা যাবে-

আপনি যেকোন বিষয় নিয়ে ব্লগ লিখা শুরু করতে পারেন।ব্লগ লিখার জন্য আপনি যেকোন নির্দিষ্ট একটি বিষয় বেছে নিন।এমন কোন বিষয় নিয়ে লিখুন যে বিষয়ে আপনি খুব ভালোভাবে জানেন। যেমনঃ নিউস পোর্টাল, রান্নাবান্না,স্বাস্থ্য,খেলাধুলা,প্রযুক্তি বিষয়ক ইত্যাদি। এর জন্য আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে মানুষ কোন বিষয়ে ইন্টারনেটে বেশি তথ্য খুঁজে। কারণ শুধু ব্লগ লিখলেই তো আর হবে না। আপনার ব্লগটিতে ভিজিটর থাকতে হবে। ব্লগে যত বেশি ভিজিটর থাকবে আপনার ব্লগ থেকে আয় করার পরিমাণ তত বাড়তে থাকতে হবে। তাই এমন একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে লিখুন যা সম্পর্কে মানুষ ইন্টারনেট থেকে জানতে আগ্রহী।

ব্লগকে গুগলে রেঙ্ক করানোর জন্য আপনাকে অবশ্যই এসইও সম্পর্কেও ধারণা রাখতে হবে।এসইও হলো এমন কিছু পদ্ধতি যা আপনার ব্লগে প্রয়োগ করার মাধ্যমে আপনি আপনার ব্লগের লিখাগুলিকে গুগলের প্রথম পাতায় নিয়ে আসতে পারবেন।ব্লগিং করার সময় আপনাকে আরো একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে,কোনভাবেই অন্য ব্লগ কিংবা ওয়েবসাইটের লিখা কপি করা যাবে না।গুগল কিন্তু অন্য সাইট থেকে কপি করা লেখা বুঝতে পারে।কপি করা ব্লগ গুগলে কখনো রেঙ্ক হবে না।উল্টো আপনার ব্লগের ক্ষতি হবে। তাই আপনাকে অবশ্যই ইউনিক ব্লগ লিখতে হতে হবে।

কিভাবে ব্লগ সাইট বানাবো-
ব্লগ সাইট তৈরি করা খুব একটা কঠিনকাজ নয়। আপনি প্রাথমিক অবস্থায় Blogger দিয়ে শুরু করতে পারেন।এখান থেকে ফ্রীতে ব্লগ সাইট তৈরি করতে পারবেন। প্রফেশনাল ব্লগ সাইট তৈরির জন্য ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করতে পারেন। তবে এর জন্য আপনার ডোমেইন এবং হোস্টিংয়ের প্রয়োজন হতে পারে। বাংলাদেশে অনেক ডোমেইন এবং হোস্টিং প্রোভাইডার রয়েছে। আপনি Namecheap থেকে ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনে নিতে পারেন।এরপর আপনার হোস্টিং প্যানেলে আপনাকে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করে নিতে হবে।ওয়ার্ডপ্রেসের জন্য প্রচুর থিম রয়েছে।এর মধ্যে কিছু ফ্রী থিম এবং পেইড থিম রয়েছে।পেইড থিমগুলির মধ্যে কিছু অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যায়। আপনি Themeforest থেকে ওয়ার্ডপ্রেসের থিম কিনতে পারেন।

২। ফ্রিল্যান্সিং করে অনলাইনে আয়-

ফেসবুক এবং ইউটিউবের বদৌলতে ফ্রিল্যান্সিং শব্দটির নাম শুনেনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। আমাদের দেশে অনলাইনে আয় বিষয়ক প্রশ্ন উঠলে ফ্রিল্যান্সিং শব্দটি সবার প্রথম চলে আসবে।বাংলাদেশের মিডিয়াতেও এটি সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার প্রচারনা চালানো হয়েছে।ফ্রিল্যান্সিংও অনলাইনে আয় করার একটি জনপ্রিয় মাধ্যম।তো এটা সম্পর্কেও জানা যাক।

ফ্রিল্যান্সিং কি-
আসলে ফ্রিল্যান্সিং আলাদা কোন কাজ না অর্থাৎ কোন দক্ষতা নয়।কেউ যদি আপনাকে বলে ফ্রিল্যান্সিং শেখাবে তাহলে সে ভুল বলছে।ফ্রিল্যান্সিং শুধুমাত্র একটি কাজের মাধ্যম মাত্র।ধরুন কারো ওয়েবসাইটের জন্য লগোর প্রয়োজন,তো আপনি খুব ভালো গ্রাফিক্সের কাজ জানেন।সে আপনাকে হায়ার করলো একটি লগো ডিজাইন করে দেওয়ার জন্য আপনি তাকে ডিজাইন করে দিলেন আর বিনিময়ে সে আপনাকে কিছু ডলার দিলো।ফ্রিল্যান্সিং মূলত এইভাবেই কাজ করে।এখানে আপনার গ্রাফিক্স ডিজাইন কিভাবে করতে হয় সে জিনিসটা জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।এই সেক্টরে শুধু গ্রাফিক্স ডিজাইন নয় আরো প্রচুর কাজ রয়েছে।

এইখানে কাজের স্বাধীনতা রয়েছে।এখানে আপনাকে বসের জারি খেতে হবে না।আপনি আপনার পছন্দমত কাজ বেছে নিতে পারবেন।আপনাকে বাইরে যেতে হবে না আপনি ঘরে বসেই কাজ করতে পারবেন। আপনি কাল কাজ না করলেও আপনাকে কেউ জারি দেবে না।যারা স্বাধীনতা পছন্দ করেন তাদের জন্য এটি খুব ভালো হতে পারে।তবে ফ্রিল্যান্সিংয়ে অনেক অসুবিধাও রয়েছে। আপনাকে রাত জেগে কাজ করতে হতে পারে কারণ আপনার বেশিরভাগই ক্লায়েন্ট হবে পৃথিবীর উল্টো দিকের।ওখানে যখন দিন আমাদের দেশে তখন রাত।এছাড়া ফ্রিল্যান্সিংয়ে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। আপনি একমাস ক্লায়েন্ট থেকে প্রচুর কাজ পেলেন, হতে পারে আপনি পরবর্তী দুই মাস কোন কাজ না ও পেতে পারেন।আপনাকে বসে থাকতে হবে।তাই এই বিষয়গুলিও আপনাকে মাথায় রাখতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শুরু করব-
ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য আপনার খুব বেশি কিছুর প্রয়োজন হবে না। একটি ভালোমানের পিসি এবং ইন্টারনেট কানেকশান হলেই আপনি ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে পারবেন।ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে আপনার ইংরেজিতে অবশ্যই দক্ষতা থাকতে হবে।ভালো কমিউনিকেশন স্কিল থাকতে হবে। তবে হ্যা আগেই বলেছি ফ্রিল্যান্সিং আলাদা কোন কাজ নয় এটি শুধুমাত্র একটি মাধ্যম।চলুন ফ্রিল্যান্সিংয়ের মধ্যে থাকা কিছু কাজ সম্পর্কে জানা যাকঃ

৩। গ্রাফিক্স ডিজাইন করে আয়-

গ্রাফিক্স ডিজাইন খুবই জনপ্রিয় একটি মাধ্যম।আমাদের দেশে প্রচুর গ্রাফিক্স ডিজাইনার রয়েছেন যারা ফ্রিল্যান্সিং করেন।এর মধ্যে রয়েছে লগো,বিজনেস কার্ড,বিভিন্ন কভার,টিশার্ট ইত্যাদি ডিজাইন করা।আপনার গ্রাফিক্স ডিজাইনে ভালো দক্ষতা থাকলে এই বিষয়গুলি নিয়ে কাজ করতে পারেন।

লিখে আয় করুন-
অনেকে লিখালিখির মাধ্যমেও ফ্রিল্যান্সিং করে থাকেন।আপনার যদি লিখার হাত ভালো থাকে তাহলে আপনি আর্টিকেল লিখেও আয় করতে পারবেন।ক্লায়েন্ট আপনাকে দিয়ে বিভিন্ন আর্টিকেল লিখিয়ে নেবে।এরজন্য আপনার ইংরেজি লিখার হাত ভালো থাকতে হবে কারণ বেশিরভাগ ফ্রিল্যান্সিং সাইটে আপনি ইংরেজি লিখার কাজ পাবেন।

৪। ওয়েব এবং অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট আয়ঃ

আপনি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট নিয়েও ফ্রিল্যান্সিং করতে পারেন।ওয়েব ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমেও প্রচুর মানুষ ফ্রিল্যান্সিং করে।আপনি এই বিষয় নিয়েও কাজ করতে পারেন।

অ্যাপ ডেভেলপমেন্টঃ
ওয়েবের মত অ্যাপ ডেভেলপমেন্টও ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। আপনার যদি প্রোগ্রামিং সম্পর্কে ভাল ধারণা থাকে এবং অ্যাপ ডেভেলপমেন্টে ভাল দক্ষতা থাকে তাহলে আপনি এই বিষয় নিয়ে কাজ করতে পারেন।বর্তমানে অ্যাপ ডেভেলপমেন্টে আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়েড এই দুইটি অপারেটিং সিস্টেম জনপ্রিয়।

৫। ভিডিও ইডিটিং করে আয়ঃ

আপনি যদি ভালো ইডিটিং জেনে থাকেন তাহলে ভিডিও ইডিট করেও আপনি ফ্রিল্যান্সিং করতে পারেন।ফ্রিল্যান্সিং সাইট যেমন- Freelancer, Fiverr, Upwork.কম   এই সাইটে   প্রচুর কাজ পাওয়া যায়।

৬।এসইও করে আয়ঃ

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের যুগে এসইও খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি দক্ষতা।এসইও জানলে আপনার জন্য অনেক কাজ সহজ হয়ে যাবে।বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং সাইটে এসইও নিয়ে প্রচুর কাজ রয়েছে।এসইও হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন।ক্লায়েন্ট আপনাকে তার ওয়েবসাইট গুগলে রেঙ্ক করানোর জন্য হায়ার করবে।এসইওর মধ্যে এছাড়াও আরো অনেক বিষয় রয়েছে।

উপরে শুধুমাত্র অল্প কিছু কাজ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।এগুলি ছাড়াও ফ্রিল্যান্সিংয়ের জগত প্রচুর কাজ রয়েছে।কয়েকটি জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট হচ্ছে Upwork,Fiver,Freelancer.com কাজে দক্ষতা অর্জন না করে এসব সাইটে আগে থেকেই কাজ পাওয়ার আশা করা উচিত নয়।তাই প্রথমে ভালোভাবে যেকোন একটি কাজে দক্ষতা অর্জন করে নিন।

৭। ইউটিউব থেকে আয়-

বর্তমানে ইউটিউব থেকে আয় করা সম্ভব।বাংলাদেশে ইউটিউবের প্রচুর দর্শক রয়েছে। গুগলের মত ইউটিউবও জনপ্রিয়।ইউটিউব বিশ্বের দ্বিতীয় সার্চ ইঞ্জিনে পরিণত হয়েছে।মানুষ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য ইউটিউবকে ব্যবহার করছে।এছাড়া নতুন কিছু শেখা এবং বিনোদনের জন্যও ইউটিউব খুবই জনপ্রিয়।আপনি যদি নির্দিষ্ট কোন বিষয়ে আগ্রহী হয়ে থাকেন তাহলে সে বিষয়ক বিভিন্ন ভিডিও ইউটিউবে ছাড়তে পারেন। ইউটিউব চ্যানেল একাউন্ট করাও খুবই সহজ।

আপনি যেকোন বিষয়ক ভিডিও আপনার চ্যানেলে ছাড়তে পারেন।প্রযুক্তি,বিনোদন,রান্না,বিজ্ঞান,প্রোডাক্ট রিভিউ এরকম আরো অনেক বিষয় নিয়ে ইউটিউবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।ভিডিও ছাড়ার সাথে সাথে আপনার চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার বাড়তে থাকবে এবং নিজস্ব দর্শক তৈরি হবে।তবে এর জন্য আপনাকে অবশ্যই ভালোমানের ভিডিও তৈরি করতে হবে।আপনাকে বুঝতে হবে দর্শক কি পছন্দ করছে আর কি পছন্দ করছে না।

ইউটিউবের মাধ্যমেও ভালো টাকা আয় করা সম্ভব।বাংলাদেশে প্রচুর ইউটিউবার রয়েছেন যারা ভালো মানের টাকা ইউটিউব থেকে আয় করে থাকেন।

ইউটিউব মনিটাইজেশন-
ইউটিউব থেকে টাকা আয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে।এর মধ্যে একটি হল গুগল এডসেন্স এবং স্পন্সর।আপনি আপনার ইউটিউব চ্যানেলে এডসেন্সের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে ভালো মানের টাকা আয় করতে পারবেন।এছাড়া আপনার চ্যানেল যদি জনপ্রিয় হয় তাহলে বিভিন্ন কোম্পানি আলাদা ভাবে আপনার সাথে যোগাযোগ করবে তাদের বিভিন্ন প্রোডাক্ট সার্ভিস আপনার ডিডিওতে স্পন্সর করার জন্য।এর মাধ্যমেও প্রচুর আয় করা সম্ভব।

৮। এফিলিয়েট মার্কেটিং করে অনলাইনে আয়-

এফিলিয়েট মার্কেটিং করে অনলাইনে আয় করা অন্যতম জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি।এফিলিয়েট মার্কেটিং করে প্রচুর মানুষ অনলাইনে আয় করছে।বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে প্রচুর মানুষ এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের দিকে ঝুঁকছেন। অনেকে এটিকে ফুলটাইম পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।এটিকে আপনি ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের একটি অংশ হিসেবে ধরে নিতে পারেন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে আপনি অন্যের প্রোডাক্ট কিংবা সার্ভিস বিক্রি করে দেওয়ার মাধ্যমে কমিশন পেয়ে থাকবেন।একটি সহজ উদাহরণ দিয়ে ব্যাপারটা বোঝা যাক।ধরুন আমার অনলাইনে একটি টিশার্টের ব্যবসা রয়েছে।এখন আমি চাচ্ছি আমার প্রোডাক্ট গুলির প্রচার হোক এবং সবাই আমার টিশার্টগুলি কিনুক।এরজন্য আমি আমার ওয়েবসাইটে অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম চালু করলাম এবং আপনি সেই অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে আবেদন করে সংযুক্ত হলেন।আমি প্রতিটি টিশার্ট বিক্রি করার জন্য ১০% প্রফিট দেওয়ায় সম্মতি হলাম।এখন আপনি যতটি টিশার্ট বিক্রি করবেন প্রতিটি টিশার্ট বিক্রির জন্য ১০% করে প্রফিট পাবেন।ধরুন আপনার মাধ্যমে যদি কেউ ৫০০ টাকা মূল্যের একটি টিশার্ট কিনে তার জন্য আপনি ১০% প্রফিট অর্থাৎ ৫০ টাকা পাবেন।

একেকটি অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামের একেকরকম নিয়ম রয়েছে।এটি যে শুধু টিশার্টই হতে হবে এমন নয়।যেকোন প্রোডাক্ট কিংবা সার্ভিসের অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম থাকতে পারে।অ্যামাজনেরও অ্যামাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং প্রোগ্রাম রয়েছে।প্রচুর মানুষ রয়েছে যারা অ্যামাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং করেও প্রচুর আয় করছেন।

ব্লগ,ওয়েবসাইট,ইউটিউব চ্যানেল এবং কি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও এফিলিয়েট মার্কেটিং করা সম্ভব। আপনার মূল টার্গেট হচ্ছে প্রোডাক্ট বিক্রি করা।আপনার যত বেশি মজবুত অডিয়েন্স থাকবে প্রোডাক্ট বিক্রি করার সম্ভাবনাও তত বেড়ে যাবে।

৯। পন্য বিক্রির মাধ্যমে আয়ঃ

বর্তমান যুগ হচ্ছে ইন্টারনেটের যুগ।মানুষের মধ্যে পন্য কেনার আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।ইকমার্স ব্যবসার মাধ্যমেও আপনি অনলাইনে আয় করতে পারবেন।আপনি যেকোন একটি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির প্রোডাক্ট বিক্রি করতে পারেন।আপনি যদি দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে ভালো কোয়ালিটির প্রোডাক্ট বিক্রি করতে হবে।

পণ্য বিক্রির জন্য যা যা প্রয়োজন-
আপনি চাইলে প্রথমে ফেসবুক পেজ দিয়েই শুরু করতে পারবেন।ফেসবুক পেজে shop নামে একটি ক্যাটাগরি রয়েছে যার মাধ্যমে আপনি আপনার প্রোডাক্ট লিস্টিং করতে পারবেন এছাড়া নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও পন্য বিক্রি করতে পারেন।আমাদের দেশে দারাজ ওয়েবসাইটেও প্রচুর ক্রেতা রয়েছে। আপনি চাইলে দারাজে শপ খুলেও পন্য বিক্রি করতে পারেন।যেহেতু দারাজে আগে থেকেই ভিজিটর রয়েছে তাই ক্রেতা পাওয়া আপনার জন্য সহজ হয়ে যাবে।এছাড়া আজকের ডিল এবং ইভ্যালিতেও শপ খুঁলে পন্য বিক্রি করার সুযোগ রয়েছে।

পন্য লিস্টিং করলেই কিন্তু কাজ শেষ নয়।পন্য বিক্রির জন্য আপনাকে প্রচার প্রচারণা চালাতে হবে।মার্কেটিং করার জন্য কিছু টাকা বাজেটে রাখতে।ফেসবুক বুস্ট কিংবা গুগল এডসের মাধ্যমে আপনি আপনার গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে পারেন।

১০। গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে অনলাইনে আয়-

গুগল এডসেন্স হচ্ছে গুগলের একটি জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক।আপনি হয়তো জেনে থাকবেন গুগলের মাধ্যমে প্রচুর মানুষ বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে।আপনিও এসব বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারবেন।এর জন্য গুগল এডসেন্সে আপনাকে পাবলিশার হিসেবে জয়েন করতে হবে।পাবলিশার হিসেবে জয়েন করার পর আপনিও এসব বিজ্ঞাপন প্রচার করে ভালো মানের টাকা আয় করতে পারবেন।

এডসেন্সের বিজ্ঞাপন আপনি যেখানে সেখানে প্রচার করতে পারবেন না।এর জন্য আপনার অবশ্যই ভালো মানের একটি ব্লগ সাইট থাকতে হবে।ব্লগে অবশ্যই ভালো মানের ইউনিক কনটেন্ট থাকতে হবে।কারণ এডসেন্সে আবেদন করার পর তারা আপনার ব্লগ সাইটটি রিভিউ করে দেখবে যদি তারা ভালো মানের কনটেন্ট না পায় আপনার ব্লগ সাইটটি তারা এপ্রুভ করবে না।এছাড়া ব্লগে অবশ্যই ভালোমানের ভিজিটর থাকতে হবে,কারণ ব্লগে ভিজিটর না থাকলে কেউই আপনার প্রচার করা বিজ্ঞাপন দেখতে পাবে না।মনে রাখবেন গুগল তখনই শুধু আপনাকে টাকা দেবে যখন ব্লগের বিজ্ঞাপনে ক্লিক পড়বে।

এছাড়া আপনার যদি ইউটিউব চ্যানেল থেকে থাকে সেখানেও আপনি এডসেন্সর মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে টাকা আয় করতে পারবেন।তবে ইউটিউবে মনিটাইজেশনের আবেদন করার জন্য আপনার চ্যানেলে অবশ্যই ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে এবং ১২ মাসের মধ্যে ভিডিও ৪ হাজার ঘন্টা ওয়াচ টাইমের প্রয়োজন হবে।

১১। ফটো বিক্রি করে অনলাইনে আয়-

আপনি কি ভালো ছবি তুলতে পারেন? ফটোগ্রাফিতে আপনার নেশার রয়েছে? তাহলে আপনি অনলাইনে আপনার নিজস্ব ফটো বিক্রি করেও টাকা আয় করতে পারবেন।এরজন্য আপনাকে একজন ভালো মানের ফটোগ্রাফার হতে হবে।আপনাকে এমন কিছু করতে হবে যা মানুষ পছন্দ করবে।অনলাইনে ফটো বিক্রি করেও ভালো মানের টাকা আয় করা সম্ভব।

আপনি আপনার ফটোতে ইচ্ছেমত দাম নির্ধারন করে দিতে পারবেন। আপনার হাতেই ১০০% নিয়ন্ত্রণ থাকবে।আপনি যেকোনভাবে আপনার ফটোকে সাইটে প্রদর্শন করাতে পারবেন।ফটো বিক্রি কয়েকটি জনপ্রিয় ওয়েবসাইট হলো Adobe stock , Shutterstock, Alamy, Esty

১২। ইবুক বিক্রি করে আয়-

আপনি কি ভালো লিখালিখি করতে পারেন?কোন নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে কি আপনার ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে? তাহলে আপনি ইবুক লিখা শুরু করতে পারেন।ইন্টারনেট এবং প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে বদলে দিয়েছে।এখন আমরা মোবাইল কিংবা ট্যাবে শত শত ইবুক জমা করে রাখতে পারি।যেকোন সময় ইবুক পড়তে পারি।

মানুষের মধ্যে ইবুক পড়ার জনপ্রিয়তা বাড়ছে।আপনি যদি একটি ভালো ইবুক লিখতে পারেন সেটিও হতে পারে আপনার আয়ের একটি ভালো মাধ্যম। অ্যামাজনে আপনার ইবুক বিক্রি করে আপনি ভালো মানের টাকা আয় করতে পারেন।

১৩। প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আয়-

বর্তমান সময়ে মানুষ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য ইন্টারনেটকে ব্যবহার করছে।ইন্টারনেটে প্রচুর প্রশ্ন উত্তর ওয়েবসাইট তৈরি হয়েছে।এইসব সাইটে মানুষ বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানার জন্য নানারকম প্রশ্ন করে থাকে।এসব প্রশ্নের উত্তর দিয়েও টাকা আয় করা সম্ভব।আপনি যদি গনিত,ইংরেজি, বিজ্ঞান এই বিষয়গুলি ভালোভাবে জেনে থাকেন তাহলে আপনি প্রশ্নের মানসম্মত উত্তর দিয়ে ও টাকা আয় করতে পারবেন।

এরকম প্রচুর ওয়েবসাইট রয়েছে যারা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আপনাকে টাকা প্রদান করবে।তবে অবশ্যই ভালোমানের উত্তর প্রদান করতে হবে এবং যে বিষয়ে উত্তর প্রদান করছেন সে বিষয়ে অভিজ্ঞ হতে হবে।এই ওয়েবসাইটগুলিতে আপনি অংশগ্রহন করতে পারেন Justanswer, Studypool.

১৪। অনলাইন সার্ভে করে আয়-

পৃথিবীতে প্রচুর মার্কেট রিসার্চ করা কোম্পানি রয়েছে যারা আমাদের মত সাধারণ জনগন থেকে লোক নিয়ে থাকে সার্ভে পূরন করার জন্য।তারা আমাদের মতামতের উপর নির্ভর করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।ইন্টারনেটে প্রচুর ওয়েবসাইট রয়েছে যারা সার্ভে পূরণ করার জন্য টাকা দিয়ে থাকে।আপনি আপনার অবসরের সময়ে এসব সার্ভে পূরণ করে ভালো মানের টাকা আয় করতে পারবেন।তবে এসব ওয়েবসাইটের মধ্যে প্রচুর ভুয়া ওয়েবসাইটও রয়েছে যারা পেমেন্ট করে না। তাই আপনাকে সতর্ক হতে হবে।

এসব ওয়েবসাইট প্রতি মাসের মেম্বারদের জন্য কিছু নির্দিষ্ট পেইড সার্ভে দিয়ে থাকে,এসব সার্ভে পূ্রণ করে আপনি বিভিন্ন রিওয়ার্ডস,গিফট কার্ড এবং ক্যাশ টাকা তুলে নিতে পারবেন।

কিছু বিশ্বস্ত সার্ভে ওয়েবসাইট হলঃ Swagbucks, Toluna, Onepoll.

১৫। কোর্স বিক্রি করে আয়-

বর্তমান যুগ হচ্ছে ইন্টারনেট এবং প্রযুক্তি যুগ।এমন অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলো শেখার জন্য আলাদা করে কোনো প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার দরকার নেই।আপনি ঘরে বসেই ইন্টারনেট নানারকম কোর্স নিতে পারেন।অনলাইন কোর্সের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।মানুষ এখন ঘরে বসে অনলাইনে বিভিন্ন ব্যাপারে শিখতে আগ্রহী।এর জন্য ইন্টারনেটেও বিভিন্ন রকম ওয়েবসাইট গড়ে উঠেছে।মানুষের এই আগ্রহকে আপনি কাজে লাগাতে পারেন।

আপনি যদি কোন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ হয়ে থাকেন তাহলে সেই বিষয়ে কোর্স বানিয়ে আপনি অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন।ধরুন আপনি ভালো গ্রাফিক্স ডিজাইন জানেন তাহলে গ্রাফিক্স ডিজাইন বিষয়ক কোর্স বানিয়ে অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন।অথবা ভালো ইংরেজি জানেন সে বিষয়ে আপনি কোর্স বানিয়ে বিক্রি করতে পারেন।কোর্স বিক্রির জন্য আপনি নিজস্ব ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারেন।অথবা ইন্টারনেটে এরকম অনেক প্ল্যাটফর্ম রয়েছে যেখানে আপনি আপনার কোর্স বিক্রি করতে পারেন।ইংরেজি ভাষায় কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ওয়েবসাইট হল Udemy , Skillshare. এছাড়া বাংলা কোর্স বিক্রির জন্য রয়েছে Repto

কোর্স তৈরির পর নানাভাবে আপনার কোর্সের প্রচারণা চালাতে থাকুন।প্রচারনার ক্ষেত্রে ইউটিউব এবং ফেসবুককে ব্যবহার করুন।

ইতি কথা-
অনলাইনে আয় করার আরো হাজারো সহজ উপায় আছে । এর জন্য নিজেকে দক্ষ করতে হবে আর ধৈর্য্য ধরে পরিশ্রম করে যেতে হবে। নিত্যনতুন স্কিলের সাথে নিজেকে আপডেট রাখতে হবে। অনলাইনে শর্টকার্টে ইনকামের কোন উপায় নেই। তাই আপনাকে সেই মন মানসিকতা নিয়েই এই জগতে আসতে হবে। অনলাইল হলো একটি খোলা মাঠের মতো এখানে আপনি যতটা দক্ষতা নিয়ে কাজ করবেন ততই ইনকাম করবেন।

শেয়ার করুন 👇👇

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *